ক্যাসিও এফ ৯১ ডাব্লিউ ঘড়িটি কোথায় হারিয়ে গেলো

কর্তৃক প্রযুক্তি সারাদিন
0 মন্তব্য 1896 ভিউজ

স্কুলের ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে অফিসের কর্মচারী, এক সময় প্রায় সবার হাতেই দেখা যেত ক্যাসিও ঘড়ি । এই কোম্পানির ঘড়ি গুলো কেবল সামান্য একটি ঘড়ি নয়, এগুলো ৯০ দশকের শৈশবের স্মৃতি৷ কেবলমাত্র বাংলাদেশ নয়, তার পাশাপাশি বিশ্বের আরো অনেক দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল ক্যাসিওর এই ঘড়িগুলো। বিশেষ করে f91w ।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঘড়ির বাজার ফ্যাকাশে হয়ে যায়৷ বর্তমানে বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস, বিশেষ করে মোবাইল ফোন বাজারে চলে আসার পর ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা কমতে থাকে৷ তবে ঘড়ির প্রয়োজন না থাকলে কি হবে, বাজারে এসেছে স্মার্ট ওয়াচ, হেলথ বিট মিটারের মতো আরো অনেক যন্ত্রাংশ৷ যেগুলো হাতে পড়ে থাকতে হয়।

তাহলে কোথায় হারিয়ে গেল সেই ক্যাসিওর সেই স্মৃতিময় ঘড়ি গুলো৷ এই আর্টিকেলে আপনারা সেটি জানতে চলেছেন । মূলত ক্যাসিও একটি জাপানি কোম্পানি৷ তারাই সর্বপ্রথম অ্যানালগ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘড়ি তৈরি শুরু করে৷ সেগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারা বিশ্বেরঘড়ির মার্কেট দখল করে নেয়৷ এ ঘড়ির মাঝে আমাদের দেশে বিশেষভাবে সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছিল যে ঘড়িটি, সেটি হচ্ছে ক্যাসিও f91w ।

ক্যাসিও f91w ঘড়ি টি অসাধারণ রকম স্থায়ী৷ সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত টিকে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে এই ঘড়িটির৷ তবে একটা কথা না বললেই নয়, এই ঘড়িটি বিভিন্ন দেশে নকল ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। কোনটি আসল কোনটি নকল সেটি বোঝার জন্য ঘড়ির কারিগররা একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করে৷ সেটি হচ্ছে ঘড়ির ডান পাশের বাটনটি তিন সেকেন্ড চেপে রাখলে ক্যাসিও লেখা ইংরেজিতে ভেসে উঠবে৷ কয়ার্টোজ ঘড়ি হওয়ার কারণে এতে দরকার ব্যাটারি৷

আর এতে যে ব্যাটারী ব্যবহার করা হয় সেটি বোতাম আকৃতির ব্যাটারি৷ এই ক্যাসিও ঘড়ি টি কোনো কৌতুহলী তরুণ খোলার চেষ্টা করেনি এবং খুলে আবার তা লাগাতে ব্যর্থ হয়নি এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে৷

যাইহোক ক্যাসিও তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মনকাড়া ডিজাইনএর জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে ক্যাসিও ঘড়ি টি সারা বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ক্যাসিওর ইঞ্জিনিয়াররা প্রথমদিকে চিন্তা করেছিলেন কিভাবে ঘড়ি টিকে আরও শক্ত পোক্ত করা যায়৷ এই চিন্তা থেকেই ঘড়িটি ধীরে ধীরে দানবীয় আকার ধারণ করে৷ বিভিন্ন ফিচারস এতে যোগ করার কারণে এর দামও ধীরে ধীরে চওড়া হতে থাকে৷ কেবল সাধারণ মানুষ নয় তার পাশাপাশি খেলোয়াড়, বিশেষ ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন সচেতন মানুষ এই ঘড়িটি পরিধান করতো৷

ধীরে ধীরে আরও ফিচারস এবং প্রযুক্তি যুক্ত হতে থাকে ঘড়িটির সাথে৷ ফলে এক পর্যায়ে তারা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে থাকে। তাই ক্যাসিও তাদের আশির দশকে ব্যাপক জনপ্রিয় g-shock w5000 c ঘড়ি টি বাজারে আনে৷ টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ১০০ গেজেট এর মধ্যে অন্যতম w5000 c ।

এবং এই g-shock w5000 c এর মত করে পরবর্তীতে এফ f91w ঘড়ি টি বাজারে আসে৷ দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এবং স্বল্প মাত্রায় পানি প্রতিরোধ ক্ষমতা এইসকল কমন ফিচারস ঘড়িটির মধ্যে যুক্ত করা হয়৷ ফলে ধীরে ধীরে এটির দাম কমতে থাকে৷ এবং জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে৷ এটির ডিজাইন ও করা হয় সাদামাটা । এবং এই সাদামাটা ডিজাইনটি পরবর্তীকালে সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে৷

তবে বর্তমানের ডিজিটাল ঘড়ি গুলো বাজারে আসার কারণে f91w ঘড়িগুলো কেমন আর কারো চোখে পড়ে না৷ ব্যবহার কমে গেছে ।বলতে গেলে বাজার থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে৷ তবে বাজার থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলেই কি হবে? এগুলো চিরকাল থাকবে আমাদের মনের কোটরে, বিশেষ করে “অস্থির ৯০” এর স্মৃতিতে।

0 মন্তব্য
0

তুমিও পছন্দ করতে পার

মতামত দিন