worldcup-2018-group
recent ফিচার

ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ হিসেবে কে কার প্রতিপক্ষ

আজ থেকে রাশিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপে আটটি গ্রুপ-এ মোট ৩২টি দল অংশগ্রহন করতে যাচ্ছেন। একমাস ব্যাপী চলবে এই আয়োজন। চলুন জেনে নেই ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ হিসেবে বিভিন্ন দলের অবস্থান সম্পর্কে।

গ্রুপ এ –
এ গ্রুপের রয়েছে ফেভারিট উরুগুয়ে। তবে গ্রুপে আছে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। সালাহ তার ফর্মে ধারাবাহিক থাকলে উরুগুয়েনদের জন্য এটাই হতে পারে চিন্তার কারণ। গ্রুপের বাকি দুই দল- স্বাগতিক রাশিয়া আর সৌদি আরব। এদের নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না গ্রুপের প্রথম সারির দুই দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দেশ উরুগুয়ে। এই নিয়ে মোট ১৩বার বিশ্বকাপের মঞ্চে দলটি। ১৯৩০ প্রথম বিশ্বকাপ তারপর ১৯৫০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। দলের দুই সেরা মুখ লুইস সুয়ারেজ এবং এডিনসন কাভানি। ইউরোপের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। শুধু তাই নয়, গোলকিপার মুসলেরা এবং ডিফেন্ডার গডিনের দিকেও স্পটলাইট থাকবে।

আয়োজক রাশিয়ার বিশ্বকাপে স্মরণীয় কিছু নেই। এবারের আসরটি রাশিয়ার জন্য ভিন্ন। প্রথমবার গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আয়োজন দেশটি। আয়োজক হওয়ার সুবাদে বাছাইপর্বে অংশ নিতে হয়নি। দলটির বড় তারকা ফেইডর সোমোলোভ, আলেকজান্ডার কোকোরিন, আলেকজান্ডার গোলোভিন। আয়োজক হিসেবে চমক দিতে চাইবে রাশিয়া।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে মিশর। একজন মোহাম্মদ সালাহ না থাকলে মিশরকে নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতো না। সদ্য শেষ হওয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন লিভারপুলের এই গোলমেশিন। তাকে নিয়ে ড্রয়িং বোর্ডে বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে প্রতিপক্ষের কোচদের। সালাহ ছাড়াও কুপারের দলে আছে মোহম্মদ এলনেনি, আহমেদ হেগাজি, রামাদান শোভি এর মতো ফুটবলাররা।

১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলে সৌদি আরব। সেই থেকে পরপর চার বার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন সৌদিদের। অবশ্য ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর তাদেরকে আর পাওয়া যায়নি সেরাদের মঞ্চে। বিশ্বকাপে তেমন কোনো নজরকাড়া খেলোয়াড় না থাকলেও, দুই মিডফিল্ডার ইহায়া আল শেহরি, সালিম আল দাওসারির দিকে নজর রাখতেই হবে।

গ্রুপ বি –
বি গ্রুপে সামর্থ্যের পরীক্ষা দিতে হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। কারণ তাদের গ্রুপে আছে আরেক ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন। বাকি দুই দল মরক্কো ও ইরান র‍্যাকিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের দিনে চমকে দিতে পারে প্রতিপক্ষকে। এবারের গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে, পর্তুগালের আপডেট মিস করতে চাইবেন না ফুটবলপ্রেমীরা। কারন একটাই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শুধু ক্লাব পর্যায়েই নয়। জাতীয় দলের জার্সি গায়েও সমানভাবে সাফল্যের অংশীদার সিআরসেভন। নিজের শো কেসে স্থান দিয়েছেন ২৫টি ট্রফির। তবে এখন পযর্ন্ত একটাও বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ওঠেনি বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের। বিশ্বকাপ জয়ের এই আক্ষেপ ঘোচাতে মুখিয়ে থাকবেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। আক্রমণে মূল চাবিকাঠি রোনালদোর সাথে নজর থাকবেন আন্দ্রে সিলভা, রিকারডো কুরেসমা এবং ইউরো ফাইনালে একমাত্র গোল করা এডেরের ওপর। অন্যদিকে, বার্নার্ডো সিলভা, হোয়া মুতিনিয়োর ওপর দায়িত্ব থাকবে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করা।

বি গ্রুপের আরেক ফেভারিট স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে শিরোপা জেতে লা ফুরিয়া রোহা। তাদের তিকিতাকা ফুটবল একসময় বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। যদিও তারপর কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে দলটি। কিন্তু কোচ জুলেন লুপেতেগুই দলটাকে ধীরে ধীরে সাজিয়েছেন। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দুরন্ত ফুটবল খেলেছেন ইস্কো-আলবারা। ডিফেন্সে রামোস এবং পিকের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে স্পেন। সঙ্গে মাঝমাঠ সামলাবেন ইস্কো, ইনিয়েস্তা, দাভিদ সিলভা, জাভি। আছেন দুরন্ত জর্ডি আলবা। স্ট্রাইকিংয়ে আলভারো মোরাতা। তবে সবার নজর থাকবে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার দাভিদ দি হিয়ার ওপর।

বি গ্রুপে রয়েছে মিনোস মরক্কো। ২০ বছর পরে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারো দেখা যাবে দলটিকে। পঞ্চমবারের মত বিশ্বকাপ খেলবে মরক্কো। দলের অন্যতম ভরসা অধিনায়ক মেধি বেনেতিয়া। এছাড়া নরদিন অম্রাবাটের ওপর নজর থাকবে। আক্রমণে খালিদ বউটাইব ও আয়ুদ এল কাবির কোচের ভরসা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপ বি তে থাকলেও, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরুজের কোচিংয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে মরিয়া থাকবে ইরান। দলে বড় তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও জালাল হোসেনি অন্যতম কাণ্ডারি। এহসান হাজসাফি, আশকান দেজাগাহ এবং অধিনায়ক মাসুদ সোউজেইয়কে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড। স্ট্রাইকিংয়ে দলটির ভরসা কারিম আন্সারিফার্ড এবং রেজা ঘুচানিজাদ।

গ্রুপ সি –
ফ্রান্স, ডেনমার্ক, পেরু ও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গ্রুপ-সি। শক্তিমত্তায় এগিয়ে ফ্রান্স। ডেনমার্কেও আছেন কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আর ১৯৮২-এর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়া পেরু হয়ে উঠতে পারে ডার্ক হর্স। ঘরের মাঠে ৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের চমক। দাপট দেখিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। তবে পরের আসরে হতাশ করেছে। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০০৬ আসরে রানার্স আপে সন্তুষ্ট থাকতে হয় লা ব্লুদের। ২০১০ ও ২০১৪ আসরে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি দলটি। এই নিয়ে পনেরবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স। ফিফা র‍্যাকিংয়ে অবস্থান সাতে। দলটির স্ট্রাইকিং লাইনআপ প্রতিপক্ষের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। আঁতোয়া গ্রিজম্যান, কিলিয়ান এমবাপে, অলিভিয়ের জিরু দিদিয়ের দেশমকে আস্থা দিচ্ছেন। গোলপোস্টের নিচে অধিনায়ক হুগো লরিসের ভরসা দেবেন।

১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে ডেনমার্ক। পঞ্চমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত ড্যানিশরা। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কোয়ালিফাইটাই দলটির সেরা সাফল্য। র‍্যাকিংয়ের ১২ নম্বরে রয়েছে ডেনমার্ক। কোচ এগ হারেইডের নেতৃত্বে যেকোনো দলকে চাপে ফেলতে পারে ড্যানিশ ডাইনামাইটরা। ডিফেন্স সামলোনোর মূল দায়িত্ব থাকবে অধিনায়ক সিমন কায়েরের ওপর। স্ট্রাইকিংয়ে নজর থাকবে ক্যাস্পার ডোলবারগ, নিকলাই জরগেন্সনের ওপর। ড্যানিশদের উপরেই আছে পেরু। র‍্যাকিং-এ তাদের অবস্থান ১১ নম্বরে। পঞ্চমবারের মত বিশ্বকাপ খেলবে লা ব্লাংকুইরোজারা। ১৯৩০ সালে আমন্ত্রিত দল হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল দেশটি। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দলটির সেরা সাফল্য ১৯৭০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল। ডোপিং এর দায়ে পেরুর অধিনায়ক জস পাওলো গুয়েরেরো নিষিদ্ধ হয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে। তবে স্পটলাইটে থাকবেন জেফেরসন ফারফান, অ্যান্ড্রে ক্যারিলো, রেনাতো তাপিয়ার মত তারকা ফুটবলাররা।

গ্রুপ সি তে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অস্ট্রেলিয়া। র‍্যাকিং-এ গ্রুপের অন্যদের তুলনায়ও বেশ পিছিয়ে। ৪০ নম্বরে অবস্থান সকারুদের।১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৬ সালে গ্রুপ পর্বের বাধা পেড়েনোই বিশ্বকাপে দেশটির সর্বোচ্চ সাফল্য। বাছাই পর্বে নজরকাড়া পারফর্ম্যান্সে স্পটলাইটে এসেছেন অ্যারন ময়ই। এছাড়া মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকবেন ড্যানিয়েল আরজানি, জ্যাকসন ইরভাইন। শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন টিম কেহিল।

গ্রুপ ডি –
সোনালী ট্রফি ছুয়ে দেখার আরেকটি সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। স্বপ্নের সারথি মেসিকে নিয়ে বুনছে তৃতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন। তবে গ্রুপ পর্বে ছেড়ে কথা বলবে না রাকিতিচ, মানজুকিচদের ক্রোয়োশিয়া। ডি গ্রুপে লিওনেল মেসিদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড ও নাইজেরিয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপে ওই অর্থে গ্রুপ অব ডেথ নেই। তবে বিশ্লেষন যদি করতেই হয়, তবে গ্রুপ ডিকে সে তালিকায় রাখা যায়। আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়ার সাথে আফ্রিকার সুপার ইগল নাইজেরিয়া আর প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ম্যাজিক দেখানোর অপেক্ষায় আইসল্যান্ড।
বিশ্বকাপে সবসময়ের ফেবারিট, তবে রাশিয়ার টিকিট অনেক কষ্টেই কেটেছে আর্জেন্টিনা। মেসির কাঁধে চড়ে বাছাইপর্বের বৈতরণী পার করেছে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। লিও মেসিকে ঘিরেই যত আশা আলবিসেলেস্তেদের। আগুয়েরো, দিবালা, ডি মারিয়াদের নিয়ে আক্রমণভাগটা সমৃদ্ধ আর্জেন্টিনার। ডিফেন্স লাইনেও রয়েছে ওটামেন্ডি ও রোহোদের মতো পরীক্ষিত। গোলপোষ্টে সার্জিও রোমেরোর অভাব ভোগাতে পারে আলবিসেলেস্তেদের। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আরও একবার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি স্পর্শ করতে প্রস্তুত। মেসি পারবেন কি এবার ভক্তদের স্বপ্ন পূরণ করতে?

১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। ডেভর সুকারের ম্যাজিকে জার্মানির মত দলকে হারিয়ে নাম লেখায় সেমিতে। শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয় হয় ক্রোয়েটরা। তবে সেই বিশ্বকাপের পর আর কোন চমক দেখাতে পারেনি লাল-সাদা শিবির। ফিফা র‍্যাকিংয়ে অবস্থান ১৮। বিশ্বকাপে ফেবারিট না, তবে হতে পারে ফেবারিটদের জন্য মাথা ব্যথার কারণ। জেলাটকো ড্যালিচের অধীনে মদরিচ, রাকিতিচ আর মানজুকিচরা দলটি দুর্দান্ত । গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে বিশ্বসেরা ক্রোয়েট মিডফিল্ডারদের, চমক দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।

আর্জেন্টিনার পিছুই ছাড়ছে না নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপ আসরে পাঁচবারের মতো একই গ্রুপে পড়ার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আফ্রিকান সুপার ঈগল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ অভিষেকে চমকের পর, বাকি আসরগুলোতে করেছে হতাশ। ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপ খেলবে নাইজেরিয়া। ফিফা র‍্যাকিংয়ে অবস্থান ৪৭। তবে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সামর্থ্যের জানান দেয় আফ্রিকান জায়ান্ট। অবি মিকেলের নেতৃত্বে ক্রোয়োশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রাশিয়া মিশন শুরু করবে নাইজেরিয়া।

রূপকথার জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপে ঠাই। ২০১৬ ইউরো থেকে ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১০টি ম্যাচের ৭টিতে জয়। ইউরোপিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দল ইউক্রেন আর তুরস্ককে হারিয়েছে তারা। গিলফি সিগুরসন, আলফ্রেড জার্টানসনদের নিয়ে রাশিয়ায় আরেকটি রূপকথার জন্ম দিতে প্রস্তুত আইসল্যান্ড।

গ্রুপ ই –
রাশিয়া বিশ্বকাপে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে ব্রাজিল। ই গ্রুপে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া। গ্রুপের কারোরই ফাইনালের অভিজ্ঞতা নাই। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডিই পাড় দিতে পারেনি কেউই। তবে সার্বরা সাবেক য়ুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলেছে একবার। বিশ্বকাপের সবকটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল, ব্রাজিল। প্রতিবারই শিরোপার অন্যতম দাবিদার থাকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার হেক্সা মিশনে রাশিয়া যাচ্ছে নেইমার এন্ড কোং। বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে রাশিয়ার টিকিট কেটেছে ল্যাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা। র‍্যাকিংয়ে দুই থেকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে অংশ নেবে ব্রাজিল। নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড় নেইমার। চোট কাটিয়ে নেইমারের অনুশীলনে যোগ দেয়াটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে ব্রাজিল শিবিরে। তবে তার পাশে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ডগলাস কস্তারা কম যান না। নিজেদের দিনে আলো কেড়ে নিতে পারেন তারাও। বিকল্প হিসেবে কোচ তিতের হাতে আছে রবার্তো ফিরমিনো, টাইসনের মতো ফুটবলাররা।

র‍্যাকিংয়ে আটে নম্বরে থাকা সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া বিশ্বকাপের ফেবারিট না হলেও, প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সুইশদের ইতিবাচক দিক, ব্যালেন্স। ডিফেন্স, মিডফিল্ড এবং আক্রমণভাগে জেরডেন শাকিরি, হারিস সেফেরোভিচের মত দুর্দান্ত সব তারকা আছে দলটির। এগারোবারের মত বিশ্বকাপের মঞ্চে সুইজারল্যান্ড। ১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ এ কোয়ার্টার ফাইনালই দলটির এ পর্যন্ত সেরা সাফল্য।

পঞ্চমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে কোস্টারিকা। ওয়ার্ল্ড রাংকিংয়ে ২৬ নম্বরে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ আট লা সেলেদের সেরা সাফল্য। ছোট দলের বড় তারকা কেইলর নাভাস। স্প্যানিশ লিগে রিয়াল মাদ্রিদের গোলপোস্টের ভরসা এই তারকা গোলকিপার। এছাড়া ব্রায়ান রুইস ও জোয়েল ক্যাম্পবেলরা সর্বোচ্চ দিতে প্রস্তুত। গত বিশ্বকাপ খেলা ছয় ফুটবলারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবেন কোচ অস্কার রামিরেজ।

অভিজ্ঞ আর তরুণদের নিয়ে গড়া ভারসাম্যপূর্ণ দল সার্বিয়া। স্বাধীন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এটা সার্বিয়ার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। দলটা ছোট, তাই নামের ভারে কাউকে আলাদা করা যায় না। তারপরও দুসান টাডিচ, আলেকজান্ডার মিটরোভিচ, ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ ও ভ্লাদিমির স্টকোভিচদের আলাদা করা যায়।

গ্রুপ এফ –
রাশিয়া বিশ্বকাপে আক্ষরিক অর্থে গ্রুপ অব ডেথ নেই। বিশ্লেষণ যদি করতেই হয়, তবে গ্রুপ এফ-কে সে তালিকায় রাখা যায়। এই গ্রুপে হট ফেবারিট ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। পঞ্চম শিরোপা জিততে সুইডেন, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া বাঁধা টপকাতে হবে মুলার-ওজিলদের। রেকর্ড আটবারের ফাইনালিস্ট জার্মানি। শিরোপা জিতেছে ৪ বার। ১৯৩৮ বিশ্বকাপ ছাড়া কমপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে দলটি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ডও তাদের। রাশিয়া বিশ্বকাপের হট ফেবারিট দল। পাওয়ার ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের এক আতঙ্কের নাম জার্মানি। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ডাইম্যানশ্যাফট। বোয়েটাং, হামেলস, কিমিচদের নিয়ে দুর্ভেদ্য রক্ষণ। মাঝমাঠে বলের জোগান দিতে আছে কিং অব এসিস্ট মেসুত ওজিল, টনি ক্রুস ও সামি খেদিরার মতো পরীক্ষিতরা। স্ট্রাইকে ওয়াকিম লোভের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছে থমাস মুলার। গোল পোস্টের অতন্দ্র প্রহরী ম্যানুয়েল নয়্যার।

এদিকে স্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়া রাশিয়া যাচ্ছে সুইডেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে প্লে-অফে হারিয়ে ১৩ নম্বর বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে জেন অ্যান্ডারসনের শিষ্যরা। ১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনই নীল-হলুদের সেরা সাফল্য। তবে বাছাইপর্বের পারফরমেন্স আশার পালে হাওয়া যোগাবে সুইডেনের। সুইডিশদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু ১৮ জুন, প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ সাউথ কোরিয়া। র‍্যাকিংয়ের ৬১ নম্বর দল সাউথ কোরিয়া। তবে বাছাইপর্বের বাঁধা টপকে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে পূর্ব এশিয়ার দেশটি। গ্রেটেষ্ট শো অন আর্থে সাউথ কোরিয়ার সেরা সাফল্য চতুর্থ স্থান। ঘরের মাঠে ২০০২-এ এই সফলতা অর্জন করে কোরিয়া। রেড ডেভিলসদের আশার প্রদীপ টটেনহ্যাম তারকা সন হেউংমিন।

নিজেদের ১৬ নম্বর বিশ্বকাপে অংশ নিতে রাশিয়ার টিকিট কেটেছে মেক্সিকো। ফিফা র‍্যাকিংয়ের ১৫ নম্বর দলটিতে চমক হিসেবে থাকছে মিডফিল্ডার রাফায়েল মার্কেজ। ৩৯ বছর বয়সী সাবেক বার্সা-ম্যান এর আগে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চমক দেখাতে পারেন এই মেক্সিকান।

গ্রুপ জি –
গ্রুপ জি-এর ফেভারিট বেলজিয়াম। রাশিয়ায় তারুণ্য নির্ভর দলটার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। নামের ভারে ইংল্যান্ডকেও বাদ দেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া গ্রুপে আছে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া পানামা। আর নিজেদের সেরাটা দিয়ে অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত তিউনিসিয়াও। নিজেদের ষেলোতম বিশ্বকাপে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে প্রস্তুত ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে একবারাই বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনায় মেতেছিল ইংল্যান্ড সমর্থকেরা। ৫২ বছর পর বিশ্ব জয়ের ট্রফি জিততে মরিয়া কোচ গ্যারেথ সাউথগেট ও তার শিষ্যরা। দল নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন ইংলিশ কোচ। ইপিএলে ১১ দলের ২৩ ফুটবলার বেছে নিয়েছেন। তারুণ্য নির্ভর দলে আনকেপড আলেক্সজান্ডার আরনল্ড আর নিক পোপকে নিয়ে বাজি ধরেছেন। থ্রি লায়ন্সদের ডিফেন্স সামলাবেন গ্যারি কেইল, ফিল জোনস এবং অ্যাশলি ইয়াং-রা। ১৯৩০ এ ফিফার আমন্ত্রণে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখে বেলজিয়াম। মোট ১২ বার বিশ্বকাপের মঞ্চে আসলেও এ পর্যন্ত দলটির সেরা সাফল্য ১৯৮৬-র সেমিফাইনাল। রাশিয়া বিশ্বকাপে রেড ডেভিলদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। রাংকিংয়ে তিন এ থাকা দলটিতে আছের এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকো, মারুয়েন ফেলাইনি, ভিনসেন্ট কম্পানি, ডি ব্রুয়েনা, মুসা ডেম্বেলে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে বড় এক চমকের নাম পানামা। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে দেখা যাবে দ্য রেড টাইডদের। মধ্য আমেরিকার ৪০ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ পানামা। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে ম্যাচে কোস্টারিকাকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের টিকিট কাটে পানামা। দলের বড় তারকা রোমান তোরেস। যার গোলে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় পানামা। এছাড়াও স্পটলাইটে থাকবেন পানামর টপ স্কোরার স্ট্রাইকার লুইস টেজাদা।

১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে তিউনিসিয়া। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারঅংশ নেয় দলটি। তিউনিসিয়ার এটা পঞ্চম বিশ্বকাপ। এখন পযর্ন্ত গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারেনি দ্য ইগলস অফ কারথেজরা। দলটিতে পরিচিত তারকা ফুটবলার নেই। ইনজুরির কারণে সেরা খেলোয়াড় ইউসিফ মিসাকনিকে হারানোয় বড় ক্ষতি হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে ওয়াহাবি খাজরির উপর আস্থা রাখছেন কোচ নাবিল ম্যালোল।

গ্রুপ এইচ –
রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এইচ’কে আনপ্রেডিকটেবল বলা হচ্ছে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা-চার মহাদেশীয় লড়াই এক গ্রুপে। শক্তির বিচারে এগিয়ে হামেস রদ্রিগেসের কলম্বিয়া। সমান কাতারে হলেও জাপান, সেনেগাল ও পোল্যান্ড, কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে যে কারও জন্য। গ্রুপ এইচে বড় দল কলম্বিয়া। শৈল্পিক ফুটবলের সাথে ইউরোপিয়ান স্টাইল রপ্ত করেছে দক্ষিণ আমিরেকার দেশটি। এখন পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ খেললেও গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালটাই সেরা অর্জন। সেবার হামেস রদ্রিগেজের মাস্টারক্লাস নজর কেড়েছে। দলটাকে দীর্ঘদিন ধরে ফাইনটিউন করছেন হোসে প্যাকারম্যান। ডাগআউটে কোচের ভরসার নাম রদ্রিগেজ। তবে কার্লোস সানচেজ, অ্যাবেল আগুইলাররাও আস্থা রাখবেন।

দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের মঞ্চে সেনেগাল। প্রথমবার অংশ নিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপে চমক দিয়েছিলো ফুটবল বিশ্বকে। ফ্রান্সকে হারিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলো। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলো আফ্রিকার দেশটি। ২০০২ বিশ্বকাপে দলটির অধিনায়ক অ্যালিউ সিসু, বর্তমানে আছেন দলটির কোচের ভূমিকায়। আফ্রিকান সিংহদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলেন ইউরোপিয়ান লিগে। সেনেগালিজদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লিভারপুল তারকা সাদিও মানে। আক্রমণভাগে আছেন দিয়েফরা, সাকোরা।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে পা রাখে জাপান। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলে এখন পর্যন্ত দলটির সেরা সাফল্য গ্রুপ পর্বের বাধা টপকানো। র‍্যাকিং-এ ৬০ নম্বরে জাপান। ব্লু সামুরাই জার্সি গায়ে সব সময়ই ভালো খেলে থাকেন কেইসুকে হোন্ডা। এসি মিলানের এই প্লেমেকার বিশ্বকাপে জাপানকে পথ দেখাবেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা শিনজি কাগওয়া জাপানের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা।

এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পোল্যান্ড। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করেছে পোলিশরা। দলটির প্রাণভোমরা রবার্ট লেভানডফস্কি। জার্মান লিগে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ একটা মৌসুম গেছে এ পোলিশের। লেভানডফস্কি ছাড়াও কোচের পরিকল্পনায় থাকছেন ক্যামিল গ্লিক, লুকাস পিজজেকম পিওটর জিলিন্নিস্কি। কামিল গ্লিক , লুগাস পিসচাক, পিওটির জিলঙ্কিকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *